• মানুষ কীভাবে ক্ষীণদৃষ্টিতে আক্রান্ত হয়?

শিশুরা আসলে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হয় এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাদের চোখও বাড়তে থাকে, অবশেষে তারা এমমেট্রোপিয়া নামক এক ‘নিখুঁত’ দৃষ্টিশক্তিতে পৌঁছায়।

চোখ কোন সংকেতের মাধ্যমে জানায় যে এর বৃদ্ধি থামার সময় হয়েছে, তা এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি, কিন্তু আমরা জানি যে অনেক শিশুর ক্ষেত্রে চোখ এমমেট্রোপিয়ার সীমা ছাড়িয়েও বাড়তে থাকে এবং তারা ক্ষীণদৃষ্টিসম্পন্ন হয়ে পড়ে।

মূলত, চোখ অতিরিক্ত লম্বা হয়ে গেলে চোখের ভেতরের আলো রেটিনার উপর কেন্দ্রীভূত না হয়ে রেটিনার সামনে এসে পড়ে, যার ফলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়। তাই চোখের আলোকবিজ্ঞান পরিবর্তন করে আলোকে পুনরায় রেটিনার উপর কেন্দ্রীভূত করার জন্য আমাদের চশমা পরতে হয়।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমরা ভিন্ন একটি প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হই। আমাদের কোষকলা শক্ত হয়ে যায় এবং চোখের লেন্স সহজে মানিয়ে নিতে পারে না, ফলে আমরা কাছের জিনিসও হারাতে শুরু করি।

অনেক বয়স্ক মানুষকে বাইফোকাল চশমা পরতে হয়, যেগুলোতে দুটি ভিন্ন লেন্স থাকে—একটি কাছের দৃষ্টির সমস্যা সমাধানের জন্য এবং অন্যটি দূরের দৃষ্টির সমস্যা সমাধানের জন্য।

নিকটদৃষ্টিসম্পন্ন৩

শীর্ষ সরকারি সংস্থাগুলোর এক সমীক্ষা অনুযায়ী, বর্তমানে চীনের অর্ধেকেরও বেশি শিশু ও কিশোর-কিশোরী ক্ষীণদৃষ্টিতে ভুগছে। এই অবস্থা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আরও জোরদার প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। আজ চীনের রাস্তায় হাঁটলে আপনি দ্রুতই লক্ষ্য করবেন যে বেশিরভাগ তরুণ-তরুণীই চশমা পরে।

এটা কি শুধু চীনের সমস্যা?

নিশ্চয়ই না। মায়োপিয়ার ক্রমবর্ধমান বিস্তার শুধু চীনের সমস্যা নয়, বরং এটি বিশেষভাবে পূর্ব এশিয়ার একটি সমস্যা। ২০১২ সালে ‘দ্য ল্যানসেট’ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, এই ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়া শীর্ষে রয়েছে, যেখানে ৯৬% তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক মায়োপিয়ায় আক্রান্ত; এবং সিউলের ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি। সিঙ্গাপুরে এই সংখ্যাটি ৮২%।

এই সার্বজনীন সমস্যার মূল কারণ কী?

ক্ষীণদৃষ্টির উচ্চ হারের সাথে বেশ কিছু কারণ জড়িত; এবং এর মধ্যে প্রধান তিনটি সমস্যা হলো বাইরের শারীরিক কার্যকলাপের অভাব, অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং ইলেকট্রনিক পণ্যের অতিরিক্ত ব্যবহার।

নিকটদৃষ্টিসম্পন্ন২